ঢাকা বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২৯ মাঘ ১৪৩২

শিক্ষা সফর শেষে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ছাত্রী, তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ মীরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক

ছবি : সংগৃহীত

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান:

।আমার বোন নাঈমা সুলতানা মীম বর্তমানে মীরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।গতকাল ২৮ জানুয়ারি (বুধবার) মীরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে একটি শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়, যেখানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে মীম অংশগ্রহণ করে।

সফর শেষে রাতে সবাই ফিরে আসার সময় মীরসরাই ইসলামী ব্যাংকের পাশের এলাকায় পলিব্যাগে পা পিছলে মীম ড্রেনে পড়ে যায়। এতে তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুরুতর আঘাত লাগে।ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং একপর্যায়ে সে দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে।

বর্তমানে সে বেড রেস্টে রয়েছে এবং তার পায়ে ৬–৭টি সেলাই দিতে হয়েছে।অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট স্যার-ম্যাডামদের পক্ষ থেকে যথাযথ গুরুত্ব বা তাৎক্ষণিক সহায়তা দেখা যায়নি।

একই বিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মীমকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে চাইলে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, (আপনারটাকে আপনি নিয়ে চলে যান।) পরে ওই অভিভাবকই মানবিকতার পরিচয় দিয়ে মীমকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।পরবর্তীতে মীরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা মীরসরাই হোপ মা ও শিশু হাসপাতালে এসে মীমের অভিভাবকদের হাতে ১,০০০ টাকা দেন এবং সাংবাদিকদের বিষয়টি যেন না জানানো হয় এমন কথাও বলেন।এই ঘটনাটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। আমরা বিশ্বাস করি, পরিবারের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাই আমাদের অভিভাবক। কিন্তু এমন একটি সংকটময় মুহূর্তে সেই জায়গা থেকেই আমরা অবহেলার শিকার হয়েছি।এটি প্রথম ঘটনা নয়।

বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। পরে অভিভাবকরাই এসে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হন।উল্লেখ্য, আমি নিজেও মীরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। আমাদের সময় এ ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতা ছিল না।আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

এই বিভাগের আরও
আরও পড়ুন